আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো আমার জ্ঞান অর্জনের চাহিদা/খিদা বা লোভ তৈরি করতে পারেনি।
32 Views
5 Min to Read

এতবছর পর যখন নিজেকে চিনতে শুরু করলাম তখন একটা বিষয় উপলব্ধি করলাম, এতদিন তো আমার জ্ঞান অর্জনের চাহিদাই ছিলনা। 

ছোটবেলা মা বাবা থেকে কথা বলা শিখে প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন শুরু হয়ে গেলো। সেখানে নীতি নৈতিকতা থেকে শুরু করে ভাষা বলা, লেখা ও শেখা এবং ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন শুরু হলো। 

এখান থেকেই একটা মানুষের ভিত্তি তৈরি হয়। বড় হতে শিখে, মানুষের সাথে মিশতে শিখে। 

প্রাথমিকের গণ্ডি পার হবার পরেই মাধ্যমিক জীবনের শুরু, তখন থেকেই মানুষ সপ্ন দেখতে শুরু করে। সপ্ন তৈরির চেষ্টাই নিজেকে তৈরি করে। ধীরে ধীরে তার মধ্যে পরিবর্তন আসতে থাকে এবং নিজের মধ্যে ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ পেতে শুরু করে। ঠিক এই গুরত্বপূর্ণ সময়টাতেই সবচেয়ে বড় অঘটন টা ঘটে বসে আছে তার সাথে। 

আমরা তাদের ফেলে দিচ্ছি এক পুজিবাদী সপ্নের লালসায়। যদি তুমি ভালোভাবে পড়ালেখা করে ভালো রেজাল্ট অর্জন করতে পারো তবে তুমি ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করতে পারবে আর নয়তো তোমাকে রিক্সাওয়ালা বা ফেরিওয়ালা হতে হবে। একই সাথে সপ্ন দেখানো হয় ভবিষ্যতে অনেক বড় হওয়ার। এভাবেই চলতে থাকে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক এবং আরো ..…

অতঃপর ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য না হয় ভালো রেজাল্ট হয়ে গেলো কিন্তু বড় হবে কিভাবে! বড় হতে গেলে তো জ্ঞানের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের তো জ্ঞান কিভাবে অর্জন করতে হয় তা শিখানো হয়নি। শিখানো হয়েছে কিভাবে শিক্ষা অর্জন করে প্রতিযোগিতা করতে হয়। পুরো জীবন তো পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য পড়া লেখা করেই শেষ করে দিলাম। জ্ঞান চর্চা করতে পারলাম নাহ। করবোই বা কিভাবে! জ্ঞান বিষয়টা কি এইটাই তো আমাদের এতদিন বোঝানো হয়নি। জ্ঞান মানুষের বিবেক বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে গড়ে উঠে। জ্ঞান চর্চার জন্য পরিবেশের প্রয়োজন হয়। জীবিকা অর্জনের জন্য শিক্ষা একটা বিষয় আর মানব কল্যাণের লক্ষে জ্ঞান অর্জন আরেকটা বিষয়। এই শিক্ষা গুলো তখনই কার্যকরী হতো যখন আমরা এই শিক্ষা দ্বারা বাস্তব মুখী প্রয়োগ করতে পারতাম। কখনইবা করবো! এই শিক্ষা গুলো সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানা, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করার মতো যথেষ্ট সময় নেই। কারন আমাদের এই শিক্ষা টা আমাদের পরীক্ষা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

আজ আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারিনি বলে নির্দিষ্ট সময় পর ডিগ্রি অর্জন করার পরেও বেকারত্বের ভয়ে দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়। শাসক রাষ্ট্র গুলোর পুতুল হয়ে আমরা শোষিত হয়। আমরা আমাদের জ্ঞান কে কাজে লাগিয়ে পুরো দুনিয়াকে চ্যালেঞ্জ করতে জানিনা। আমরাই আমাদের নিজেদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।

 

মূল কথা যা বলতে চাচ্ছি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। আমরা নিজ থেকে নতুন কিছু শিখতে চাইনা। যতটুকু চাই জীবিকার তাগিদে। আমরা আমাদের ইতিহাস জানতে চাইনা। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ নেই। আমাদের এই পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমরা অনাগত। শুধু কি একটু ভালোভাবে বেচেঁ থাকার জন্যই আমাদের এই পৃথিবীতে আসা!? এতো জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক সম্পন্ন মানুষের জীবন কী এই অল্প কয়েকটা সময়ের জন্যই?  মনে হয় যেনো আমরা আমাদের ব্যাক্তিত্ব কেই চিনতে পারিনি।